Sunday, January 22, 2017

আমাদের বরুড়া


          বরুড়াঃ ৩২৫ শতাব্দী থেকে বর্তমান পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ-রাজড়া ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সামাজিক, রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক অবদানে বরুড়ার যে সংগ্রামী ইতিহাস ও অবকাঠামোর ক্রমোন্নতির স্মারক রচিত হয়েছে, তা বিভিন্ন পুস্তকে ঐতিহাসিক প্রমাণ হিসেবে পাওয়া যায়। বরুড়া অঞ্চলে বিভিন্ন রাজ-রাজন্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সমাজকর্মীদের আগমনে এবং তাঁদের  প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে আজ বরুড়া উপজেলা আদর্শ উপজেলায় রূপান্তরিত হয়েছে।

            বরুড়া উপজেলার অবস্থান, আয়তন ও সীমানাঃ বর্তমান লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে বরুড়া উপজেলা অবস্থিত। এর আয়তন ৯৩ বর্গমাইল বা ২৪২ বর্গ কিলোমিটার প্রায়। বরুড়া উপজেলার পূর্বে কুমিল্লা সদর উপজেলা, সদর দুক্ষিণ উপজেলা ও  লাকসামের একাংশ। উত্তরে বুড়িচং ও চান্দিনা উপজেলা,  দক্ষিনে লাকসাম উপজেলা ও শাহরাস্তি উপজেলা (চাঁদপুর). পূর্বাংশে লালমাই পাহাড়ের অংশবিশেষ এবং পশ্চিমে চান্দিনা ও কচুয়া উপজেলা অবস্থিত।

             শিক্ষা-সভ্যতা ও সাহিত্যিক ঐতিহ্যে বরুড়াঃ সপ্তম শতকের মানুষ মহাস্তবীর শীলভদ্র চান্দিনা-বরুড়া অঞ্চলের বরকামতা (বরকান্তা) গ্রামে জন্মেছিলেন। মধ্যযুগের একজন বিখ্যাত কবির জন্মস্থানও বরুড়া। তাঁর নাম ‘শেখ চাঁদ। শিক্ষাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে অনেক সংগঠন। ঢাকাস্থ বরুড়া ছাত্রকল্যাণ সমিতি এগুলোর অন্যতম। শিক্ষা, সৌহার্দ ও উন্নয়নের মূলনীতি নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত একদল মেধাবী তরুণদের প্র্রচেষ্টায় ১৯৯২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী “ঢাকাস্থ বরুড়া ছাত্রকল্যাণ সমিতি”  যাত্রা শুরু করে।

         যাত্রালগ্ন থেকেই এ সংগঠনটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও জনকল্যাণমূলক সংগঠন হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে এই সংগঠনের প্রায় ১৩০০ জনেরও অধিক সদস্য রয়েছে। চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারী সংগঠনটির ২৫ বছর পূর্ণ হবে। সুদীর্ঘ এই পথ চলায় ঢাকাস্থ বরুড়া ছাত্রকল্যাণ সমিতি এর সদস্যদের মধ্যে সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের জন্ম দিতে সক্ষম হয়েছে। বরুড়া থেকে আগত যে কোন ছাত্রের মাথার উপর  বটছায়া হয়ে সর্বদা ছিল ও থাকবে। প্রতি বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, মেডিকেল কলেজ  জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬০-৭০ জন শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষায় জায়গা করে নেয়। আমাদের এ অর্জন ঢাকাস্থ বরুড়া ছাত্রকল্যাণ সমিতির। সংগঠনটি প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ লাভ করার জন্য এলাকার বিভিন্ন কলেজে ছাত্র/ছাত্রীদের উৎসাহিত করার জন্য কলেজ ক্যাম্পেইন করা হয়। এছাড়াও সংগঠনটি শিক্ষা সফর, ফল উৎসব,ইফতার পার্টি, খেলাধুলা, মাদক বিরোধী অভিযান, বৃক্ষরোপণ, শীতবস্ত্র বিতরণ, মেডিকেল ক্যাম্প ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহন করে থাকে।

           ঢাকাস্থ বরুড়া ছাত্রকল্যাণ সমিতির গৌরবোজ্জ্বল সাফল্যের মুকুটে আরো একটি পালক যুক্ত হয়েছে “অখণ্ড বরুড়া রক্ষা আন্দোলন” এর মধ্য দিয়ে। সংগঠনটি বরুড়ার সব দলের রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজ, ছাত্রসমাজ ও জনসাধারণের সহযোগিতায় ২০১৩ সালে বরুড়া সংসদীয় আসন দ্বিখণ্ডিত করার প্রচেষ্টাকে রুখে দিতে সক্ষম হয়েছিল, যা ভবিষ্যতে যে কোন ক্রান্তিলগ্নে বরুড়াবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করতে প্রেরণা জোগাবে।। তথ্যপ্রযুক্তির এ সময়ে ঢাকায় বসে বরুড়া সম্পর্কে জানতে Facebook Page গঠন করা হয়। যা "Students Welfare Association of Barura(SWAB)" নামে পরিচিত। এর মাধ্যমে সদস্যদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং সর্বশেষ খবরাখবর জানানো হয়।

            মুক্তিযুদ্ধ পর্ব বরুড়াঃ রাজবংশীয় শাসন-শোষণ, ঔপনিবেশিক নিগ্রহ ও অন্যান্য আন্দোলন সংগ্রাম পেরিয়ে বরুড়া জনপদ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্বে প্র্রবেশ করে। দেশ মাতৃকার মুক্তির জন্য বরুড়ার শত শত যুবক যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ১৮ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় যে সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করে সে গেজেটে বরুড়া উপজেলার ২১৬ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম স্থান পায়। তাই একথা নির্বিবাদে বলা যায় যে, মহান মুক্তিযুদ্ধে বরুড়ার ভূমিকা গৌরবজনক। মুক্তিযোদ্ধা কমাণ্ডার জনাব নূরুল ইসলাম মিলন, বেলায়েত হোসেন, সহকারী মুক্তিযোদ্ধা কমাণ্ডার জনাব ফিরোজ আহমদের একনিষ্ঠ নেতৃত্বে বরুড়া উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাগণ প্রাণপণ চেষ্টা করে এ অঞ্চলকে শত্রুমুক্ত করেন। উল্লেখ্য যে, ডিসেম্বরের ৪ তারিখেই বরুড়া পাক শত্রু মুক্ত হয়।

No comments:

Post a Comment